adimage

১০ ডিসেম্বর ২০১৯
সকাল ০৫:৫৯, মঙ্গলবার

বড় অভিনেতা হতে চায় বিল্লাল মাহমুদ

আপডেট  01:16 PM, অগাস্ট ১২ ২০১৯   Posted in : জাতীয় দোহার-নবাবগঞ্জের সংবাদ    

বড়অভিনেতাহতেচায়বিল্লালমাহমুদ

ইমরান হোসেন সুজন.

ঢাকার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের এক সাধারণ পরিবারে ২০০২ সালে জন্মগ্রহণ করেন বিল্লাল মাহমুদ। পদ্মার পাড়ে বেঁড়ে উঠা বিল্লালের অভিনয়ের প্রতি ছোট বেলা থেকেই রয়েছে বিশেষ দুর্বলতা। পদ্মা পাড়ের মৈনটঘাটে কোন সিনেমা বা নাটকের সুটিং হবে শুনলেই সকাল থেকে অপেক্ষায় করতেন অভিনয় দেখার জন্য। এছাড়া দোহার নবাবগঞ্জে চলচিত্র অভিনেতা আসার খবর পেলেই ছুটে যেতেন অভিনেতাদের এক নজর দেখার জন্য। অভিনয় দেখতে দেখতেই স্বপ্ন দেখতে থাকেন বড় হয়ে হবেন বড় অভিনেতা। শুধু করেন অভিনয়। ধীরে ধীরে নিজের গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলছেন বিল্লাল মাহমুদ। এরই মধ্যে সব মিলিয়ে প্রায় ৫০টির মত নাটক, টেলিফিল্ম, শর্টফিল্ম ও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন তিনি। রেখেছেন নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর।

বিল্লাল মাহমুদের অভিনয় যাত্রা শুরু ২০১৫ সালে পরিচালক হিমেল রাজের হাত ধরে। ‘পথে পথে যুদ্ধ’ সিনেমার মাধ্যমে তার অভিনয় যাত্রা শুরু। এক সময় হেমায়েত উদ্দিন বীর বিক্রমের জীবন নিয়ে নির্মিত আকাশ আমিন ও শিমুলের পরিচালনায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি সিনেমা কাজ শুরু করেন তিনি। তবে হেমায়েত উদ্দিনের মৃত্যুতে চলচিত্রটির কাজ থেমে যায়। এরপর নাটক, টেলিফিল্ম, শর্টফিল্ম ও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন। তার বিশেষ শর্টফিল্মগুলো হলো অত্যাচার, নেশার পরিনতি, চুরি, বিল্লা পাগল, মরন নেশা, অভিনয়, তুফান, সিংহাসন, গোলমাল, সুদ, যাযাবর নম্বর ওয়ান,  ভয় ইত্যাদি। সম্প্রতি ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পেয়েছে ‘স্বপ্নের জুতা’ নামে একটি শর্ট ফিল্ম। ইউটিউবে এ অভিনয় শিল্পীর ‘The popcorn Ltd’ নামে নিজস্ব চ্যানেল রয়েছে। যেখানে তার অভিনীত ও পরিচালিত শর্টফিল্মগুলো দেখা যায়। কয়েকদিন আগে পরিচালক পলাশ রাজ ও সহকারী পরিচালক এম, এস পলাশের ত্রিভুজ প্রেমের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘ক্রাশ’ নামে নতুন একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচিত্রে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন বিল্লাল মাহমুদ।

মেধাবী এই অভিনয় শিল্পী দোহার উপজেলা পর্যায়ে তাৎক্ষনিক একক অভিনয় প্রতিযোগিতায় পরপর দুইবার প্রথম স্থান অর্জন করেন। স্কুলে অভিনয় প্রতিযোগিতায় সব সময় প্রথম স্থান অর্জন করতেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিযোগিতাও নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন প্রতিভাবান এই অভিনেতা।

বিল্লাল মাহমুদকে ছোট বেলা থেকেই জীবনের সাথে যুদ্ধ করতে হয়েছে। বাবা মো. আলী ও মা মনোয়ারা বেগম এবং তিন বোন নিয়ে বিল্লালের পরিবার। আর্থিক অবস্থা ভাল না হওয়ায় লেখাপড়ার পাশাপাশি জীবিকার সন্ধানও করতে হয়েছে তাকে। অর্থের অভাবে পড়াশুনা বাদ দিয়ে সংসার চালাতে ঢাকায় কাজ করেছেন। সেখানে সুবিধা করতে না পেয়ে আবারও দোহার নিজ গ্রামে চলে আসের। সামান্য বেতনে কাজ নেন মৈনটঘাটের মাছের আড়তে। তবে লেখাপড়ার প্রবল ইচ্ছা থাকায় ভর্তি হন জয়পাড়া টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে। কাজ ও পড়াশুনায় ব্যস্ত থাকলেও অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা একটু কমেনি। মৈনটঘাটে বড় ক্যামেরা দেখলেই ছুটে যেতেন অভিনয় হচ্ছে ভেবে। কাজকর্ম বাদ দিয়ে ক্যামেরা পিছনে সময় কাটাতেন। ঐ সময় মৈনটঘাটে বিল্লালের পরিচয় হয় আরটিভির স্টাফ রিপোর্টার, কালের কন্ঠের দোহার-নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ও প্রিয় বাংলা সম্পাদক অমিতাভ পাল অপুর সাথে। বিল্লালের সংগ্রামী জীবনযুদ্ধের কথা শুনে দুর্বল হয়ে পড়েন অমিতাভ অপু। বিল্লালের অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা ও সুন্দর ব্যবহার দেখে তাকে প্রিয় বাংলা অফিসে অফিস সহকারী হিসেবে কাজ দেন তিনি। তবে শর্ত পড়াশুনা চালিয়ে যেতে হবে। কাজ ও অভিনয়ের পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়ে যান বিল্লাল। হয়ে উঠেন অফিসের সকলের প্রিয় পাত্র হিসেবে। এবছর তিনি উপজেলার টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছে। ঐ কলেজেই ভর্তি হয়েছেন একাদশ শ্রেণিতে।

বিল্লাল মাহমুদের কাছে মিডিয়ায় কাজ করার অনুপ্রেরণা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যখন খুব ছোট তখন নায়ক মান্না ভাইয়ের ছবি দেখতাম ও তার অভিনয় নকল করতাম। তার অভিনয়, মারামারি, ডায়লগ দেখতাম আর ভাবতাম টিভিতে যদি আমিও এমন অভিনয় করতে পারতাম। আমি মান্না ভাইয়ের অভিনয়ের পাশাপাশি তার কন্ঠ নকল করতে পারতাম। এখনো পারি। বলতে পারেন মান্না ভাই আমার অনুপ্রেরণা। তিনি আরো বলেন, আমি যখন রাস্তা দিয়ে হাটি একা একা কথা বলি, কান্না করি আবার হাসি। এসব দেখে অনেকে তাকিয়ে থাকে এবং আমাকে পাগল ভাবে। পাগল বললে আমার আরো ভাল লাগে। আমি পাগল ঠিকই তবে অভিনয়ের। আমি আমার মায়ের কাছে কৃতজ্ঞ। মা আমাকে সব সময় অভিনয় করতে সার্পোট দেয়। মায়ের দোয়ার এবং ভালবাসায় আমি একদিন বড় অভিনেতা হতে চাই।


সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul