adimage

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
সকাল ১০:৩৫, শনিবার

বাংলাদেশের মানুষ কোনদিনই জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয় না.... স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট  04:19 PM, অগাস্ট ২৫ ২০১৯   Posted in : জাতীয় দোহার-নবাবগঞ্জের সংবাদ    

বাংলাদেশেরমানুষকোনদিনইজঙ্গিবাদকেপ্রশ্রয়দেয়না....স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রিয় বাংলা অনলাইন.

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নের্তৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত দেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। সেটাকে ধরে রাখতে হলে যেটা প্রয়োজন সেটা হলো মানুষের নিরাপত্তার প্রয়োজন। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় নিরাপত্তার কাজটি করছি। পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক বাহিনী হিসেবে সজ্জিত করেছি। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখতে পুলিশ জনগণের বন্ধু হবে, জনগণের জন্য পুলিশ কাজ করবে। জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সেবা করবে। আমরা বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছি। ১৯৭১ সালে যারা দেশের বিরোধিতা করেছিল তারাই পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কায়দায় বিভিন্ন নামে সাধারণ জনগণের উপর হামলা করে দেশকে একটি অকার্যকর দেশে পরিণত করার চেষ্টা করেছিল। প্রধানমন্ত্রী আপনাদের সকলকে ডাক দিলেন তখন কিন্ত আপনারা সকলের এগিয়ে এসেছিলেন জঙ্গি দমনের জন্য। বাংলাদেশের মানুষ কোনদিনই জঙ্গিবাদকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেয় না। বাংলাদেশ কোনদিনই সন্ত্রাসকে আশ্রয় দেন না। সেই জন্যই আজ আমরা এগিয়ে চলছি বীর দর্পে মাথা উচু করে। ২০০৮ সালের আগের বাংলাদেশের দিকে ফিরে তাকান দেখেন রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাসীদের জন্ম হয়েছিল। কিন্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঠিক নের্তৃত্বে তার নিকনির্দেশনায় আজ আমরা শান্তির বাংলাদেশ পরিণত করেছি।

রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার নবাবগঞ্জ সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে কমিউনিটি পুলিশিং সেল নবাবগঞ্জ  থানা কর্তৃক আয়োজিত সন্ত্রাস, জঙ্গী ও মাদক বিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে দুপুরে অতিথিবৃন্দ নবাবগঞ্জ উপজেলা মডেল থানা ভবন উদ্বোধন ও এএসপি দোহার সার্কেল অফিস কাম বাসভবন এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও থানা প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেণ। পরে অনুষ্ঠানে উপজেলার ১০০ জন মাদক ব্যবসায়ী স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তন করে তারা প্রধান অতিথির কাছে ভবিষ্যতে আর এ ধরণের ঘৃনিত কাজে ফিরবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রধান অতিথি বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, মাদকের ব্যাপারে সরকার জিরো ট্রলারেন্স নীতি চলছে, চলবে। আমাদের সমাজ, আমাদের ধর্ম মাদককে কিন্ত প্রশ্রয় দেয় না। আমরা কোন মাদক তৈরি করি না, বাংলাদেশে মাদক তৈরি হয় না তবুও আমরা মাদকের আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। সন্ত্রাস, জঙ্গী, ও মাদক সমাজ থেকে নির্মুল করে আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে নতুন প্রজম্মের কাছে একটি শান্তিময় বাংলাদেশ উপহার দিয়ে যেতে চাই। একটি সুন্দর সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়তে আমাদের পুলিশ বাহিনী অক্লান্ত ভাবে কাজ করে চলেছে।    

অনুষ্ঠানের “গেস্ট অব অনার” প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য  সালমান এফ রহমান বলেন, আমি নির্বাচনের আগে আপনাদের সাথে যা যা ওয়াদা দিয়েছি। আমি সব বাস্তবায়ন করব ইনশাল্লাহ। অনেক বড় বড় প্রকল্পের কথা বলা হয়েছিল ইনশাল্লাহ সব করা হবে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ উপজেলায় দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করার সম্মতি দিয়েছেন। অচিরেই তা দৃশ্যমান হবে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট উন্নয়নের জন্য এ অঞ্চলে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশ ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জীবন দিয়েছে অসংখ্য পুলিশ সদস্য। প্রতিটি যুদ্ধেই আমরা জয়লাভ করেছি। বর্তমান আমরা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি। এই যুদ্ধেও আমরা জয়লাভ করবো। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসকে যেমন নির্মূল করেছি সমাজ থেকেই অচিরেই মাদককেও নির্মূল করবো আমরা। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোন ঠাই নেই। মাদক একটি সামাজিক সমস্যা। পুলিশের পক্ষে এককভাবে এই সমস্যা সমাধানের সম্ভব নয়। যারা মাদক জীবন ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন তাদের সাধুবাদ জানাই। পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, থানার যারা কর্মকর্তা আছেন তাদের প্রতি আমার কঠোর নির্দেশনা মানুষের সাথে আপনারা ভাল ব্যবহার করবেন। কোন নিরাপরাধ ব্যক্তি হয়রানি করবেন না। আমাদের কাছে যদি নিরাপদ ব্যক্তিকে হয়রানির অভিযোগ আসে তাহলে আমরা তা ক্ষমার চোখে দেখব না। যদি পুলিশের কোন সদস্য মাদক বা অন্যান্য কোন অপরাধ করে থাকে তাহলে আপনারা ৯৯৯ এই নম্বরে ফোন দিবেন। আমরা চাই এই পুলিশকে মানবিক পুলিশ করতে, এই পুলিশকে জনবান্ধব পুলিশ করতে।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) শাহ মিজান শাফিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ডিআইজি ঢাকা রেঞ্জ হাবিবুর রহমান,ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান, ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান।

ঢাকা জেলা দক্ষিণ অপরাধ (তদন্ত) এএসপি মাসুম ভূইয়ার সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশিং সেলের সভাপতি ও শাহ্জালাল ইসলামী ব্যংকের চেয়ারম্যান আক্কাস উদ্দিন মোল্লা, দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলমগীর হোসেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম সালাউদ্দীন মনজু, আওয়ামীলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য আব্দুল বাতেন মিয়া, কৃষকলীকের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন, ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন।


সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul