adimage

১৫ অক্টোবর ২০১৯
সকাল ০৪:৩৭, মঙ্গলবার

চেতনায় তাঁর ‘বঙ্গবন্ধু’ (ভিডিওসহ)

আপডেট  03:58 AM, সেপ্টেম্বর ২৩ ২০১৯   Posted in : জাতীয় রাজনীতি দোহার-নবাবগঞ্জের সংবাদ    

চেতনায়তাঁর‘বঙ্গবন্ধু’(ভিডিওসহ)

মাহ্বুবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া আত্মপ্রত্যয়ী একজন মানুষ। রাজনৈতিক জীবনে তৃণমূল থেকে উঠে আসা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পরিক্ষিত নের্তৃত্বের অনন্য এক দৃষ্টান্ত। প্রতিকুলতাকে জয় করে ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর চেতনাকে বুকে ধারণ করে যুগ যুগ ধরে রাজনীতি করে আসা মাহবুবুর রহমানের পরিচিতি ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার ‘মাটি ও মানুষের নেতা’ হিসেবে। সাংগঠনিকভাবে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তিনি। রাজনৈতিক জীবনের শেষ বেলায় এসে পেয়েছেন পুরস্কারও। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। আর সেখান থেকেই দেশ ও মানুষকে দেবার প্রত্যয় নিয়ে ঢাকা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে মাহবুবুর রহমানের নতুন করে পথচলা।

মেঘের আড়ালে বিবর্ণ রংধনুর মতো তিনি এখন কোন স্বপ্ন দেখানো ‘ফেরিওয়ালা’ নন। মানুষের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নের লক্ষে ঘুরে ঘুরে এখন তিনি উন্নয়ন কাজ ফেরি করে বেড়ান।  মাহ্বুবুর রহমানের একাল-সেকালের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর সাথে কথা বলেছেন প্রিয় বাংলা সম্পাদক অমিতাভ অপু। সাথে ছিলেন শামীম আরমান, ইমরান হোসেন সুজন ও কাজী জোবায়ের আহমেদ।

প্রিয় বাংলা : ঢাকা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে প্রায় তিনবছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথমেই তিনবছরের সফলতার কথা জানতে চাই ?

মাহবুবুর রহমান : আমি ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ২০১৭ সালের ২৪ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করি। বিগত সময়ে ঢাকা জেলা পরিষদের দূর্নাম ছিল। মানুষের কাছে দুর্নীতির আখড়া হিসেবে পরিচিত ছিল ঢাকা জেলা পরিষদ। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পরে সেটার প্রমাণও পেয়েছি। সত্যিকার অর্থে হতবাক হয়েছি!
আমি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি একইসাথে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমাকে ঢাকা জেলা পরিষদের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য। আমি অন্তত ৫০ বছর ধরে আমার এলাকায় জনগণের কল্যাণের জন্য, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য, দারিদ্রতা মুক্তির জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার নের্তৃত্বে এ পর্যন্ত কাজ করে আসছি। জননেত্রী আমাকে বুঝে-শুনেই সেই রকমের একটি দায়িত্ব দিয়েছে। কারণ আমি যে তৃণমূলের রাজনীতি করি, সেই মানুষের চাহিদা পূরণের লক্ষে এবং এলাকার উন্নয়নের জন্য ঢাকা জেলা পরিষদ একটি উপযুক্ত মাধ্যম।
আমি প্রায় ২ বছর ৮ মাসে ১৮২ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৪৬৫টি প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এরমধ্যে ৯৭০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। বাকি প্রকল্পগুলো চলমান আছে। ঢাকা জেলা পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণের পর আমি ভিন্ন আঙ্গিকে কাজ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ঢাকা জেলার প্রতিটি অঞ্চলে গিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী ও পরিষদের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখি কোন রাস্তাটা জনগুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি। সেই কাজগুলো আমি দ্রুত করার চেষ্টা করি এবং এভাবে কাজ করে সফল হয়েছি।
আমি নিজেই অবাক হই, ঢাকা জেলা পরিষদের এই অর্থ এর আগে কোথায় যেত? আমি দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম বছর ৫০ কোটি টাকা, দ্বিতীয় বছর ৭৫ কোটি টাকা, এবছর ৫০ কোটি টাকার বাজেট গ্রহণ করেছি। আমার কাছে অনেকে প্রকল্পের জন্য আসেন। কিন্ত আমি সরেজমিন দেখে তারপর প্রকল্প দেই। আমি ওই রাস্তাগুলোর প্রকল্প গ্রহণ করি, যে রাস্তাগুলো ক্ষত বিক্ষত এবং জনগুরুত্বপূর্ণ। দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৭ বছর পরও যে রাস্তাগুলো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের চোখে পড়ে নাই আমি সেই রাস্তাগুলো করে দেই। আমরা এখন ঢাকা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আরসিসি ঢালাই দিয়ে রাস্তা করে দেই। এর ফলে ২৫/৩০ বছর রাস্তাগুলোর আর মেরামত করতে হবে না। বিশেষ করে এ ধরণের প্রকল্পগুলো আমি গ্রহণ করেছি। আমি নিজে আনন্দিত এজন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার পর আমি সত্যিকার অর্থে উন্নয়নের জন্য, মানুষের যে চাহিদাগুলো ছিল সেই চাহিদা আমি পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি।




প্রিয় বাংলা : উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছিল কিনা আপনাকে?

মাহ্বুবুর রহমান :
না,  আমি   সেই   ধরনের   কোন  প্রতিবন্ধকতার সম্মূখীন হই নাই। তবে কাজ করতে গেলে কিছু সমস্যা হয়। বিশেষ করে রাস্তাগুলো করার সময় রাস্তায় ব্যক্তিগত গাছ পড়ে যায়। আমি তখন প্রথম অনুরোধ করি গাছগুলো কেটে নেয়ার জন্য, যদি সে না কাটে তবে জণগণের স¦ার্থে আমি  নিজের উদ্যোগেই গাছগুলো কেটে দেই। জনগণের কাছ থেকে সবসময় সহযোগিতা পেয়েছি। এছাড়া অনেক সময় দেখা যায়, রাস্তার ঢালাই ৬ ইঞ্চির জায়গায় ৪ ইঞ্চি দেয় ঠিকাদাররা। কারণ আমাদের দেশে ঠিকাদারদের সাথে ইঞ্জিনিয়ারদের একটা গোপন সম্পর্ক থাকে। যেকারণে আমি মাঝে মাঝে চলমান কাজগুলো দেখতে সরেজমিনে চলে যাই। তখন যদি দেখি, ৬ ইঞ্চির জায়গায় ৪ ইঞ্চি বা ৫ ইঞ্চি ঢালাই দেওয়া হচ্ছে তাহলে সাথে সাথে আমি সেই কাজ বন্ধ করে দেই।

প্রিয় বাংলা : চেয়ারম্যান হিসেবে আপনি দায়িত্ব গ্রহণের আগের সময়টাতে ঢাকা জেলা পরিষদকে দুর্নীতি অনেকটা ঘিরে রেখেছিল। সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন কিনা?

মাহ্বুবুর রহমান :
আমি সততার সাথে রাজনীতি করি। আমি যেদিন প্রথম দায়িত্ব গ্রহণ করি সেই দিন আমার জেলা পরিষদের কর্মকর্তাগণ ও দলীয় লোকজন নিয়ে আমি একটা সভা করি। আমি সাদামনের একজন মানুষ হিসেবে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্রথমদিন সাদা স্যুট, সাদা জুতা ও সাদা কলম নিয়ে সভা উপস্থিত হয়েছিলাম। সেদিনই আমি দেখলাম জেলা পরিষদের সম্পূর্ণ দেয়ালটাই দুর্নীতির কালিতে একদম কালো করে ফেলেছে। তখন আমি সবাইকে বলেছিলাম “আজ আমি যে সাদা ড্রেস পড়ে প্রবেশ করেছি, বের হওয়ার সময়ও এই ড্রেসটাই আমার থাকবে।” আমার সেই ওয়াদা আমি তিন বছরে পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। দুর্নীতির কালো তুলির আঁচরে যে ‘ঢাকা জেলা পরিষদ’ ছিল আমি তা সাদা করতে পেরেছি। আমার এই  তিন বছরে আমি   গ্যারান্টি দিতে পারি কোন দুর্নীতি হয় নাই। আমি বিগত সময়ের ফাইলপত্র ঘেটে দেখেছি। দেখেছি কিভাবে দুর্নীতি করেছে। জেলা পরিষদের ২ লাখ টাকার একটি পিআইসি আছে যেখানে টেন্ডার লাগে না। কোন প্রতিষ্ঠানের কমিটি ডিমান্ড করলে তখন দুই লক্ষ টাকা দেওয়া হয়।  আমি দেখেছি, একদিনে দুই’শ পিআইসির টাকা ব্যাংক থেকে উঠানো হয়েছে। এছাড়া আমাদের জেলা পরিষদের নিজস্ব জমিতে ঢাকা জেলা পরিষদের অর্থায়নে ২০ তলা একটি ভবন হচ্ছে যার বাজেট ১৬৩ কোটি টাকা। তিন বছরেও আমি ভবনটি সম্পূর্ণ করতে পারছিনা। তার কারন, এই ভবনের সমস্ত কাগজপত্র জেলা পরিষদের কোথাও পাওয়া যায়নি। এমনকি কোন ডকুমেন্ট নেই। কাজটির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ট্রমা কনস্ট্রাকশনও কোন ডকুমেন্ট দিতে পারছে না। মন্ত্রণালয়েও কোন ডকুমেন্ট নেই। তার মানে দুর্নীতি ঢাকতে ডকুমেন্টই গায়েব করা হয়েছে। তবে পূর্বে যারা ছিল আমি তাদের সাথে যোগাযোগ করেছি। আশা করি আগামী দুই বছরের মধ্যে ভবনটির কাজ শেষ করতে পারব।

প্রিয় বাংলা : তিন বছরে আপনার উদ্যোগে জেলা পরিষদের উল্লেখ করার মতো কিছু কর্মকান্ডের কথা জানতে চাচ্ছি?

মাহবুবুর রহমান : উল্লেখ্য করার মতো অনেক কাজই আছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সৈয়দ নজরুল ইসলাম কনভেনশন সেন্টার। এটা আমি আসার আগেই প্রকল্প ছিল। প্রকল্পটা আমি সম্পূর্ণ করেছি। কেরানীগঞ্জে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর বাবার নামে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আব্দুল হামিদ কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করেছি। দোহারের ইকরাশির খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একটি রাস্তা ১৯৮৬ সালে আমি এমপি নির্বাচন করার সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম কোনদিন নির্বাচিত হতে পারলে আমি রাস্তাটি করব। সেই রাস্তাটি আমি করে দিয়েছি। আমার দোহারে ‘সোনার বাংলা’ একটি  গ্রাম আছে  সেই গ্রামের  মানুষগুলো সব আওয়ামী লীগ করে, অথচ তারা অবহেলিত ছিল। জেলা পরিষদ থেকে ৬৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি রাস্তা করে দিয়েছি তাদেরকে। আসলে এমন কাজ করতে পারলে অনেক আনন্দ লাগে। অবহেলিত মানুষগুলো এখন আর কাঁদা দিয়ে হেঁটে আসবে না। এছাড়া ঢাকা জেলার মধ্যে ঢাকা ক্লাবে একটি বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প আছে, ঢাকা কলেজে আমরা একটা অত্যাধুনিক গেট করে দিয়েছি। এরকম উদাহরণ দিতে গেলে অনেক। আমি ৫ বছরের প্রকল্পগুলো যদি বাস্তবায়ন করি তাহলে মানুষ অবাক হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার পর আমি জনগণকে কথা দিয়েছিলাম ৬২টি জেলা পরিষদের মধ্যে ঢাকা জেলা আমি উন্নয়নের মডেল করব। আমার বিশ্বাস, আমি সেই উন্নয়নের মডেল করতে সক্ষম হব। সেই অর্থ, সেই জনবল আমার ঢাকা জেলা পরিষদে আছে।

প্রিয় বাংলা : আপনার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা লগ্ন থেকে বর্তমান পর্যন্ত একটু জানতে চাচ্ছি...

মাহ্বুবুর রহমান :
আমার রাজনৈতিক জীবনের সূচনালগ্নের কথা বলতে হলে প্রথমেই বলতে হবে উনসত্তরের কথা। আমি তখন মালিকান্দা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। ৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু কারাগারে, সারা বাংলাদেশ উত্তাল। জেলের তালা ভাঙ্গব, শেখ মুজিবকে আনব। এই স্লোগানের ধারাবাহিকতায় আমিও মালিকান্দা স্কুলের সমস্ত ছাত্রদের নিয়ে একদিন মিছিল বের করি। মিছিল বের করে স্লোগাণ দেওয়া সময় হঠাৎ করে খাকি পোষাকধারী পুলিশ এসে আমাদের উপর লাঠিচার্জ করে এবং আমাকে গ্রেপ্তার করে। আমি দুইদিন জেল খাটার পর তৃতীয়দিন যখন আমাকে আদালতে হাজির করে তখন বিচারক আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। বিচারক আমাকে প্রশ্ন করে তুমি কি কর? আমি বললাম পড়াশুনা করি। বিচারক প্রশ্ন করল, কোন ক্লাসে?   তখন  আমি   বললাম  নবম শ্রেণিতে।  আমার  কথা  শুনে বিচারক আমার জামিন তো দিলই মামলাটাও খারিজ করে দিল।  
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলো। আমি মুক্তিযুদ্ধে যাব বলে সিদ্ধান্ত নিলাম। এলাকায় ট্রেনিং হচ্ছে এটা জানতাম। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম ধোপাবাড়ির মাঠে রাতে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং হবে। আমি রাতে সেখানে চলে গেলাম এবং মুক্তিযোদ্ধারা আমাকে সাথে সাথে নিতে রাজি হল। আমাকে ডা. আবুল কালাম তাঁর বাসায় নিয়ে গিয়ে হাতে একটা রাইফেল দিয়ে শপথ গ্রহণ করালো। সাহসিকতার কারণে আমাকে সবসময় ডাক দেওয়া হতো।
“বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয় তখন আমি তোলারাম কলেজের এইচএসসির ছাত্র। সকাল বেলা উঠে যখন টিভিতে দেখলাম বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে তখন আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এবং ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবে খুব কস্ট পেয়েছিলাম।  বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে প্রথম শহীদ মিনারে মিছিলে আমি উপস্থিত ছিলাম। সেই মিছিলে প্রথম আমি স্লোগাণ দিয়েছিলাম ‘এক মুজিবের রক্ত থেকে লক্ষ মুজিব জন্ম নেবে’। আজ আমার মনে হচ্ছে, সেই স্লোগাণটা বাস্তবায়ন হয়েছে।”
১৯৮১ সালে ইডেন কনভেশন সেন্টারে আওয়ামী লীগের সম্মেলন। তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ছাত্রলীগ করি। তখন একটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল কে হবে আওয়ামী লীগের সভাপতি। সে সময় আমার রাজনৈতিক  গুরু   প্রয়াত   আব্দুল রাজ্জাক   আমাদের   বলে গেলেন, “তোমরা স্লোগান দাও, শেখ হাসিনাকে সভাপতি চাই।” আমরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনাকে সভাপতি চাই স্লোগান দিতে থাকলাম। শেখ হাসিনা সভাপতি নির্বাচিত হলেন। এরপর আমরা ২১ বছর বিরোধীদল ছিলাম। এরশাদের আমলেও আমি রাজপথে মিছিল করেছি। একসময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলো। সেই ধারাবাহিকতায় এখন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা ৪র্থ বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আমি সারা জীবন মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা জন্য নিজের জীবনের সোনালী দিনগুলো, জীবন যৌবন সবকিছু বিসর্জন দিয়েছি। তবে এখন আমি সফলতার দারপ্রান্তে এসে গেছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা যে দায়িত্ব আমাকে দিয়েছে সেই দায়িত্ব আমি সততার সাথে পালন করছি এবং করব।

প্রিয় বাংলা : ধন্যবাদ আপনাকে

মাহবুবুর রহমান :
প্রিয় বাংলা পরিবার সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ। সবার সহযোগিতা নিয়ে দোহার-নবাবগঞ্জবাসী তথা ঢাকা জেলার মানুষের জন্য আমৃত্যু করে যেতে চাই।


ফেসবুকে এই সাক্ষাৎকারের ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন এই লিংকে: 

https://www.facebook.com/priyobanglanews/videos/2398753493717521/




সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর