adimage

০৯ Jul ২০২০
সকাল ০৭:১১, বৃহস্পতিবার

বান্দুরা ব্রিজে টোলের নামে চাঁদাবাজি চলছেই!

আপডেট  07:04 AM, নভেম্বর ০৩ ২০১৯   Posted in : জাতীয় আঞ্চলিক ঢাকা দোহার-নবাবগঞ্জের সংবাদ    

বান্দুরাব্রিজেটোলেরনামেচাঁদাবাজিচলছেই!

ইমরান হোসেন সুজন :

সরকার থেকে ইজারা না দেওয়া হলেও ঢাকার নবাবগঞ্জের বান্দুরা ব্রিজের ওপর থেকে নিয়মিত টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি চলছেই। প্রশাসন বারবার ব্রিজের ওপর থেকে টোল আদায় বন্ধ করলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই সরকার দলের নেতাদের নাম ব্যবহার করে চাঁদা আদায় করে প্রভাবশালী একটি চক্র।

জানা যায়, উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের পুরাতন বান্দুরা বাজারের পূর্বপাশের পুরাতন বান্দুরা লঞ্চঘাট সংলগ্ন ২১ শতাংশ খাসজমির খাস ইজারা নিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ূন কবির। নিয়মানুযায়ী তিনি কেবল নির্দিষ্ট জায়গার টোল তুলতে পারবে। কিন্ত নিয়মনীতি না মেনে বান্দুরা ব্রিজের ওপর থেকে তার নাম ব্যবহার করে নিয়মিত টোল আদায় করা হচ্ছে। কয়েকমাস আগে উপজেলা চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ, এম সালাউদ্দিন মনজু সরেজমিনে গিয়ে ব্রিজের ওপর টাকা উঠানো বন্ধ করে দেন। তবে কিছুদিন যেতে না যেতে ব্রিজের ওপর থেকে আবারও টোল আদায় করতে থাকেন তারা।

শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, তিনজন যুবক হাতে কলম নিয়ে টাকা আদায় করছেন। ব্রিজের ওপর ইজিবাইকগুলো থামিয়ে টাকা উঠানোর ফলে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। তবে সেদিকে খেয়াল নেই টাকা আদায়কারী যুবকদের। কেউ টাকা দিতে দেরি বা রাজি না হলে লাঞ্ছিত পর্যন্ত করা হয় বলে অভিযোগ ইজিবাইক চালকদের। প্রকাশ্যে এমন চাঁদা তোলা হলেও প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না কেউ।

কয়েকজন ইজিবাইক চালক জানান, পুলিশের সাথে চোর পুলিশ খেলে ওরা। পুলিশ এলেই ব্রিজের ওপর থেকে টাকা আদায় বন্ধ করে সরে যায় চাঁদাবাজরা। পুলিশ চলে গেলে আবারও শুরু করে গাড়ি থেকে টাকা আদায়। তবে তারা অভিযোগ করে বলেন প্রশাসন চাঁদা আদায়ের ব্যাপারে জানে না এটা হতে পারে না। প্রশাসনকে না জানিয়ে অবৈধভাবে প্রকাশ্যে এভাবে টাকা উঠাতে সাহস পেত না ওরা।

কথা হয় টাকা আদায়কারী এক যুবকের সাথে। তবে নিজের নাম ও সহকর্মীদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি। তিনি জানান, প্রতিদিন ব্রিজের ওপর থেকে ৩/৪ হাজার টাকা ওঠে। সে হিসেবে মাসে লক্ষাধিক টাকা। মামুন ও সাগর নামে দুই বড় ভাই তাদেরকে টাকা ওঠানোর দায়িত্ব দিয়েছেন। ব্রিজে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা তিনজন টাকা তুলেন। বিনিময়ে প্রতিদিন তাদেরকে ৩০০ টাকা করে বেতন দেওয়া হয় বলে জানান ওই যুবক।

স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার ব্রিজের ওপর থেকে টাকা আদায় বন্ধ করা হয়েছিল। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারও প্রকাশ্যে ব্রিজ থেকে টাকা উঠানো হয়। এর আগে কয়েকজনকে আটকও করেছিল পুলিশ।  সবশেষ নাসির উদ্দিন ঝিলু উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার পর চাঁদা আদায় বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্ত কয়েকদিন যেতে না যেতেই চাঁদা আদায় করা হচ্ছে জোড়পূর্বক।

এব্যাপারে সাগর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি স্বীকার করেন, ব্রিজের ওপর থেকে টাকা উঠানোর কোন অনুমোদন নেই। তিনি জানান, ব্রিজের ওপর থেকে টাকা উঠাতে আমরা কাউকে বলি নাই। যদি কেউ ওঠায় তাহলে নিষেধ করে দিব। হুমায়ূন ভাই ইজারা পেয়েছে সে আমাদেরকে স্ট্যান্ড টাকা উঠাতে বলেছে। আমরা বাস স্ট্যান্ডেই টাকা উঠাই। ব্রিজের টাকা তোলার কোন নিয়মই নেই।

এব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবিরের মুঠোফোনে শনিবার ফোন দিলে তিনি বলেন আমি একটা অনুষ্ঠানে আছি, পরে ফোন দিতে হবে। এরপর একাধিকবার তাকে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেনি।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ, এম সালাউদ্দিন মনজু প্রিয় বাংলা নিউজকে বলেন, আমরা বান্দুরা ব্রিজে কাউকে টোল আদায়ের অনুমতি দেই নাই। কেউ ব্রিজের ওপর থেকে টোল আদায় করতে পারবে না। আমি ব্যাপারটা অবগত নয়। তিনি আরও জানান, সবশেষ আইনশৃঙ্খলা মিটিং এ নবাবগঞ্জ ও বান্দুরা ব্রিজে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ দেওয়া যায় কি না সে ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। সেখানে ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ দেওয়া গেলে আর যানজট আর থাকবে না।  


সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul