adimage

২৫ মে ২০২০
বিকাল ০৮:৩৯, সোমবার

নবাবগঞ্জে সর্দি, কাশি ও জ্বরে একজনের মৃত্যু

আপডেট  11:20 AM, মার্চ ৩১ ২০২০   Posted in : দোহার-নবাবগঞ্জের সংবাদ    

নবাবগঞ্জেসর্দি,কাশিওজ্বরেএকজনেরমৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকার নবাবগঞ্জে এক ব্যক্তি সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর উত্তরার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে মারা গেছেন।  এঘটনায় মৃত ব্যক্তির বাড়ি ও তাদের বাড়িতে যাতায়াতকারী কয়েকটি পরিবারকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নবাবগঞ্জের বাসিন্দা ৫৮ বছর বয়সী ঐ ব্যক্তি  সোমবার রাতে রাজধানীর উত্তরার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  মারা যায়।

আজ তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে দুপুরে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন নিহতের বাড়িতে যান। এরপর মৃত ব্যক্তির স্ত্রী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর আগে তার অসুস্থতার লক্ষণ শোনার পর আশেপাশের কয়েকটি বাড়ির পরিবারকে টানা ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে নির্দেশ দেয় উপজেলা প্রশাসন।

এ বিষয়ে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বলেন, আমি ঘটনা শোনার পরপরই সরেজমিনে গিয়ে সকলকে নিরাপদে ঘরে থাকার পরামর্শ দিই। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকটি বাড়ি চিহ্নিত করে সকলকে বাড়ির বাহিরে না যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম সালাউদ্দিন মনজু বলেন, নিহত ওই ব্যক্তি সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। তবে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কি না নিশ্চিত নয়। রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। তবে তার মৃত্যু আইসোলেশনে হওয়ায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে নিহতের বাড়ির আশেপাশের কয়েকটি বাড়ির পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। তারা যেনো বাড়ির বাহিরে বের না হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু উপজেলা প্রশাসন সরবরাহ করবে।

এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল বলেন, মৃত্যুর সংবাদের সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ওই এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে নিদিষ্ট করে দেওয়া কয়েকটি পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টাইন থাকার সকল ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। সেজন্য ব্যানারও টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখানে যদি কেউ হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার শর্ত অমান্য করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, গতকাল সোমবার বিকেলে সর্দি, কাশি, জ্বর ও প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে ওই বৃদ্ধ হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার মধ্যে করোনার আক্রান্ত হওয়ার প্রত্যেকটি উপসর্গ বিদ্যমান থাকায় আমাদের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডা. হরগোবিন্দ সরকার অনুপ তাকে বিভিন্ন পরিক্ষা নিরীক্ষা দেয়। এরপর তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে রাখার প্রয়োজন অনুভব করে স্থানীয় সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমানের সাহায্য নিয়ে তাকে সন্ধ্যার পর রাজধানীর উত্তরার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়। তাই তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।  কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল থেকেই তার করোনা পরিক্ষা করা হবে। পরিক্ষার রিপোর্ট পেলে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এছাড়াও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে এই উপজেলার ৮৫ বছর বয়সী আরও এক বৃদ্ধ আমাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন বিভাগে তিনদিন ধরে ভর্তি রয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মো. শহিদুল ইসলাম।


সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul